বাংলা
প্রশ্ন: ০১ সর্বকালের
সর্বশ্রেষ্ট বাঙালি, স্বাধীনতার স্থপতি, আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ
মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য যে সব যুক্তি তুলে ধরেছেন
সেগুলো সাজিয়ে লিখ।
উত্তর লেখার সময়
আমরা অবশ্যই প্রদত্ত মূল্যায়ন নির্দেশকগুলো অনুসরণ করবো; স্বাধীনতার পক্ষে
যুক্তিগুলাে সঠিকভাবে উল্লেখ করতে হবে, বাক্যগঠন ও বানান
শুদ্ধ হতে হবে
সর্বকালের
সর্বশ্রেষ্ট বাঙালি, স্বাধীনতার স্থপতি, আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে
পড়ার জন্য যে সব যুক্তি তুলে ধরেছেন তা হল-
হাজার বছরের
শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের
স্থপতি ও বাঙালি জাতিসত্তা বিকাশের পুরোধা; তিনি আমাদের বাঙ্গালী জাতির পিতা;
রেসকোর্স ময়দানে
৭ মার্চে বঙ্গবন্ধু তার জীবনের শ্রেষ্ঠ ভাষণ দিয়েছিলেন। এই ভাষণ ৭ ই মার্চের ভাষণ
হিসেবে বিখ্যাত।
১৮ মিনিটের ওই
ভাষণে তিনি বাঙালির মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত স্বাধীনতা সংগ্রামের আহ্বান জানান।
লক্ষাধিক লোকের
সামনে পাকিস্তানি দুধের কামান-বন্দুক মেশিনগানের হুমকির মুখে বঙ্গবন্ধু শেখ
মুজিবুর রহমান এর কন্ঠে ঘোষণা করেন এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম এবারের
সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।
সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীনতার স্থপতি, আমাদের
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য
যেসব যুক্তি তুলে ধরেছেন সেগুলো লেখা হলো-
সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা-
যেকোনো মানুষের
কাছে বিস্ময়কর মনে হবে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার ২৩ বছরের মধ্যে কোন
সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭০ এর
ডিসেম্বরে।
সেই নির্বাচনে
বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তান প্রদেশের জাতীয় পরিষদে ১৬৯ টি
আসনের ১৬৭ টি লাভ করে।
পাকিস্তানের
জাতীয় পরিষদে ছিল ৩০০ আসন বিশিষ্ট পশ্চিম পাকিস্তানের ৮৩ আসন পেয়ে জুলফিকার আলী
ভুট্টোর পাকিস্তান পিপলস পার্টি দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে।
ওই নির্বাচন ছিল বঙ্গবন্ধুর
ছয় দফার প্রতি জনগণের রায়।
৭ মার্চের ভাষণে
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথমেই দেশের সার্বিক পরিস্থিতি আলোচনা করেন। দেশের
শাসন ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করেন।
নিজ ভূমিকা ও অবস্থান ব্যাখ্যা –
স্বাধীন বাংলাদেশ
রাষ্ট্রের রাজনৈতিক আন্দোলনে তরুণ বাঙালি সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করতে ১৯৪৮ সালের ৪ ঠা
জানুয়ারি শেখ মুজিব গঠন করলেন ছাত্রলীগ নামের এক অপরাজেয় ছাত্র সংগঠন।
১৯৪৯ সালের ২৩
জুন জন্ম নেয় আওয়ামী লীগ। কারাগারে বন্দি ২৯ বছরের শেখ মুজিবকে সংগঠনের যুগ্ম
সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়।
এরপর যত সময়
গেছে, শেখ
মুজিব হয়ে উঠেছেন আওয়ামী লীগের প্রাণ। ভাষা আন্দোলনের সুকঠিন সময় কারাগারে
বন্দী শেখ মুজিবই ছিলেন নেতাকর্মীদের প্রাণপুরুষ।
১৯৫৬ সালে
কোয়ালিশন সরকারের শিল্প-বাণিজ্য শ্রমনীতি দমন ও ভিলেজ-এইড দপ্তরের মন্ত্রীর
দায়িত্ব লাভ করলেও বাঙালি জাতির বৃহত্তর স্বার্থে আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করার
উদ্দেশ্যে ১৯৫৭ সালে মন্ত্রীর দায়িত্ব ছেড়ে দেন শেখ মুজিব।
এছাড়াও
অন্যান্য যেসব যুক্তি তুলে ধরেছেন তার মধ্যে অন্যতম হলো-
পশ্চিম
পাকিস্তানের রাজনীতিকদের ভূমিকার উপর আলোকপাত, সামরিক আইন প্রত্যাহারের আহ্বান,
অত্যাচার ও সামরিক আগ্রাসন মোকাবেলার হুমকি, দাবি
আদায় না হওয়া পর্যন্ত পূর্ব-পাকিস্তানে সার্বিক হরতাল চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত
ঘোষণা এবং নিগ্রহ ও আক্রমণ প্রতিরোধের আহ্বান।
সামরিক আইন
মার্শাল-ল’ উইথড্র করার কথা বলেছিলেন। সমস্ত সামরিক
বাহিনীর লোকদের ব্যারাকে ফেরত নেয়ার জন্য জোর দাবি করেছিলেন।
তিনি তার
বক্তৃতায় যুক্তি দিয়েছিলেন- মনে রাখবেন শত্রুবাহিনী ঢুকেছে নিজেদের মধ্যে
আত্মকলহ সৃষ্টি করবে, লুটতরাজ করবে।
এই বাংলায়-
হিন্দু-মুসলমান, বাঙালি-অবাঙালি যারা আছে তারা আমাদের ভাই, তাদের
রক্ষার দায়িত্ব আপনাদের উপর, আমাদের যেন বদনাম না হয়।
অনুপ্রেরণা
যোগাতে তিনি বলেছিলেন- সাত কোটি মানুষকে দাবায়ে রাখতে পারবা না। আমরা যখন মরতে
শিখেছি, তখন কেউ আমাদের দাবাতে পারবে না।
কৃষি শিক্ষা
সৃজনশীল প্রশ্ন: ১
সখিপুর গ্রামের মিনারা বেগম বাড়ির পাশের ৫ শতক
জমির পুকুরে রুই, কাতলা, সিলভার কার্প ও কার্পিও জাতের মাছ চাষের
উদ্যোগ নেন। এজন্য তিনি মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শ নিয়ে প্রয়ােজনীয় চুন, সার প্রয়ােগ করে পুকুর প্রস্তুত করেন।
§ ক) মিনারা বেগম পুকুরে কি
পরিমাণ ইউরিয়া সার প্রয়ােগ করেছিলেন? নির্ণয় কর।
§ খ) মিনারা বেগমের উদ্যোগটি
মূল্যায়ন কর।
ক) মিনারা বেগম পুকুরে কি
পরিমাণ ইউরিয়া সার প্রয়ােগ করেছিলেন? নির্ণয় কর
উত্তর: মিনারা বেগম পুকুরে যে পরিমাণ ইউরিয়া
সার প্রয়োগ করেছিলেন,
তা নির্ণয় করা হলো-
আমরা জানি,
পুকুরের মাছ ছাড়ার পূর্বে পুকুর প্রস্তুত
করতে শতক প্রতি ইউরিয়া সার প্রয়োজন ১০০-১৫০ গ্রাম।
অর্থাৎ,
§ ১ শতক জমিতে ইউরিয়া সার
প্রয়োজন = ১০০-১৫০ গ্রাম
§ ৫ শতক জমিতে ইউরিয়া সার
প্রয়োজন = (১০০-১৫০)×৫ গ্রাম
§ = ৫০০-৭৫০ গ্রাম।
যেহেতু মিনারা বেগম এর পুকুরের জমির পরিমাণ ৫
শতক, সেহেতু
তিনি তার পুকুরে ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রাম ইউরিয়া সার প্রয়োগ করেছিলেন।
খ) মিনারা বেগমের উদ্যোগটি
মূল্যায়ন কর:
উত্তর: সখিপুর গ্রামের মিনারা বেগম বাড়ির
পাশের ৫ শতক জমির পুকুরে রুই, কাতল, সিলভার কার্প ও কার্পিও জাতের মাছ
চাষের উদ্যোগ নেন।
মিনারা বেগমের গৃহীত উদ্যোগটি খুবই
প্রশংসনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি।
উদ্দীপকে মিনারা বেগম যে পদ্ধতিতে মাছ চাষ
করেছেন, তা হলো
মিশ্র মাছ চাষ পদ্ধতি। মিনারা বেগম যে মাছগুলো চাষ করার জন্য বেছে নিয়েছেন,
সে মাছগুলো পুকুরে বিভিন্ন স্তরের খাবার খেয়ে বেঁচে থাকে।
এই মাছ চাষ করার জন্য প্রথমেই তিনি পুকুর
প্রস্তুত করেন। পুকুর প্রস্তুত করার জন্য তিনি মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শ নেন।
তিনি মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শ নিয়ে
প্রয়োজনীয় চুন,
সার প্রয়োগ করে পুকুর প্রস্তুত করেন।
উপরোক্ত মাছগুলো পুকুরে চাষের সুবিধা গুলো
নিচে দেয়া হল-
§ ১. এরা জলাশয় এর বিভিন্ন
স্তরের খাবার খায় যেমন- কাতলা পুকুরের উপর স্তরে, রুই মধ্যস্তরে এবং মৃগেল নিচের স্তরের খাবার খায়।
§ ২. এরা রাক্ষসের স্বভাবের
নয়।
§ ৩. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা
ভালো।
§ ৪. দ্রুত বর্ধনশীল।
§ ৫. চাষের জন্য সহজেই
হ্যাচারিতে পোনা পাওয়া যায়।
§ ৬. স্বল্পমূল্যের সম্পূরক
খাবার খেয়ে বেড়ে ওঠে।
§ ৭. খেতে সুস্বাদু ও বাজারে
চাহিদা আছে।
মিশ্র চাষের অনেক সুবিধা রয়েছে যেমন-
→ মাছ পুকুরের বিভিন্ন স্তরে থাকে ও খাবার
খায় বলে পুকুরের সকল জায়গা ও খাবারের সদ্ব্যবহার হয়
→ কোন স্তরের খাবার জমা হয়ে নষ্ট হয় না। ফলে
পুকুরের পরিবেশ ভালো থাকে
→ মিশ্র চাষে মাছের রোগবালাই কম হয়
→ সর্বোপরি উৎপাদন বৃদ্ধি পায়
উপরোক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, মিনারা বেগম এর
উক্ত উদ্যোগটি সফল ভাবে পরিচালনা করতে পারলে তিনি নিজে স্বাবলম্বী
হওয়ার পাশাপাশি, এলাকার অনেকের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করতে
পারবেন।
ফলে তার এলাকার বেকারত্বের হার হ্রাসের
পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে বেকারত্ব হ্রাস পেতে সহযোগিতা করবে।
অন্যদিকে, তিনি যে মাছ চাষ করবেন সে মাছ বিক্রি করে
অনেক টাকা আয় করতে পারবেন; যা জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান
রাখবে।
এছাড়া চাষকৃত মাছ মিনারা বেগম এর এলাকার
মাছের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রপ্তানি করে দেশের মানুষের
চাহিদা পূরণ করতে অবদান রাখবে।
পরিশেষে বলা যায়, মিনারা বেগম এর মাছ চাষের
উদ্যোগের ফলে জাতীয় অর্থনীতি বেগবান হওয়ার পাশাপাশি দেশের বেকারত্বের হার হ্রাস
পাবে। অতএব উদ্যোগটি তাৎপর্যপূর্ণ।
২। পলিব্যাগে চারা তৈরী
সুবিধাজনক কেন? ব্যাখ্যা কর-
যে নার্সারিতে পলিব্যাগে চারা উৎপাদন করা হয়
তাকে পলিব্যাগ নার্সারি বলা হয়।
বিভিন্ন ধরনের ফল ও বনজ গাছের চারা উৎপাদনের
জন্য সরাসরি অথবা অঙ্কুরিত বীজ বপন করা যায়।
পলিব্যাগ নার্সারিতে চারা উৎপাদনের অনেক
সুবিধা থাকায় বেশিরভাগ ফলজ ও বনজ চারা উৎপাদন করা হয়।
পলিব্যাগ নার্সারিতে চারা উৎপাদন করার প্রধান
সুবিধা গুলো হলো-
§ ১. যে কোন মাপের এবং
ঘনত্বের তৈরি করা যায়।
§ ২. মজবুত ও দীর্ঘস্থায়ী।
§ ৩. হালকা ও সহজে
পরিবহনযোগ্য।
§ ৪. উৎপাদিত চারা পরিচর্যা
করা সহজ এবং মৃত্যু হার কম।
§ ৫. পলিব্যাগে চারা
পরিবহনের চারার
কোনো ক্ষতি হয় না।
§ ৬. পলিব্যাগে চারা রোপণ
করা সহজ।
§ ৭. সহজে পরিবহনযোগ্য বলে
প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে চারা রক্ষা করা যায়।
§ ৮. চারা বিতরণ ও বিপণন
করতে সুবিধা হয়।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন